বিজ্ঞান - প্রশ্ন উত্তর

avatar
+২ টি ভোট
ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি এগুলো সাধারণত বিকাল কিংবা রাতেই ঘটে কেন?

ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি সাধারণত বিকাল কিংবা রাতেই ঘটে কারণ এই সময়েই বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়।


কারণসমূহ:

  • সূর্যের তাপ: দিনের বেলায় সূর্যের তাপ মাটি এবং জলের পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এর ফলে, উত্তপ্ত বাতাস উপরে উঠতে থাকে।
  • আর্দ্রতা: দিনের বেলায়, বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
  • ঠান্ডা বাতাস: বিকালের দিকে, ঠান্ডা বাতাসের স্তর নিচের দিকে নেমে আসতে থাকে।


এই তিনটি বিষয় একত্রিত হলে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।

  • অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে:
    • ঝড়ো হাওয়া তৈরি হয়।
    • মেঘ দ্রুত ঘনীভূত হয়।
    • বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
    • শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।


বিকাল এবং রাতের দিকে সূর্যের তাপ কমে আসে, ঠান্ডা বাতাসের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। ফলে, ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।


কিছু ব্যতিক্রম:

  • কখনো কখনো ভোরবেলা বা সকালেও ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
  • শীতকালে ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি কম হয়।
avatar
+৩ টি ভোট
সূর্যদয় এবং সূর্যাস্তের সময় সূর্যের রং লাল দেখায় কেন?
সূর্যদয় এবং সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখানোর কারণ হলো আলোর বিক্ষেপণ বা বিচ্ছুরণ।

সূর্যের আলো আসলে সাদা, যার মধ্যে সব রঙের আলো মিশে থাকে। যখন এই আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে আসে, তখন গ্যাসের অণু এবং ধূলিকণা দ্বারা আলোর কিছু অংশ ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকেই বিক্ষেপণ বলা হয়।

বিভিন্ন রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন। লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসার সময় নীল রঙের আলো বেশি ছড়িয়ে পড়ে। লাল রঙের আলো কম ছড়িয়ে পড়ে, বরং সরলরেখায় আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়।

ভিজিবল আলোর মধ্যে নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে থাকা ধূলিকণায় বাধা পেয়ে বিচ্ছুরিত হয়। এই কারণে আমরা আকাশের রঙও নীল দেখতে পাই।

সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় সূর্য আমাদের দিগন্তের কাছাকাছি থাকে। তখন সূর্যের আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে বায়ুমণ্ডলের অনেক বেশি অংশ ভেদ করে আসে। এই অতিরিক্ত বায়ুমণ্ডল দ্বারা নীল রঙের আলো আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে লাল রঙের আলো ছাড়া অন্য রঙের আলো আমাদের চোখে পৌঁছাতে পারে না।

এই কারণেই সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় সূর্য লাল দেখায়।
avatar
+৩ টি ভোট
সনিক বুম (Sonic Boom) বলতে কি বুঝায়?

সনিক বুম বলতে বোঝায় শব্দের বেগের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি বেগে চলাচলকারী কোনো বস্তু, যেমন বিমান বা গুলি, যখন বায়ুকে অনেক দ্রুত ঠেলে সরিয়ে দেয় তখন সৃষ্ট ঘাত তরঙ্গ (shock wave) থেকে উৎপন্ন তীব্র শব্দকে। এটি শুনতে অনেকটা বাজ পড়ার শব্দের মতো।


সনিক বুমের কারণ:

যখন কোনো বস্তু শব্দের বেগের চেয়ে বেশি বেগে চলে, তখন বস্তুটির সামনের বায়ু সরে যাওয়ার জন্য সময় পায় না। এর ফলে বস্তুটির চারপাশে শক ওয়েভ তৈরি হয়। এই শক ওয়েভ বায়ুতে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই শক ওয়েভ আমাদের কানে পৌঁছালে তখন আমরা সনিক বুম শুনতে পাই।


সনিক বুমের বৈশিষ্ট্য:

  • সনিক বুম খুবই তীব্র শব্দ হতে পারে, এর তীব্রতা ২০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যেতে পারে।
  • এটি শুনতে অনেকটা বাজ পড়ার শব্দের মতো।
  • সনিক বুম খুবই স্বল্পস্থায়ী হয়, এটি সাধারণত কয়েকশো মিলিসেকেন্ডের জন্য স্থায়ী হয়।
  • সনিক বুম শুধুমাত্র তখনই শোনা যায় যখন কোনো বস্তু শব্দের বেগের কাছাকাছি বা শব্দের বেগের চেয়ে বেশি বেগে মুভ করে।
avatar
+৩ টি ভোট
বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়না কেন?

হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম গ্যাসের চেয়ে হালকা হওয়া সত্ত্বেও বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয় না। এর কারণ হলঃ

  • হাইড্রোজেন গ্যাস দাহ্য। অক্সিজেন এবং তাপ বা আগুনের সংস্পর্শে এলে এটি সহজেই জ্বলে উঠতে পারে। তাই আগুনের কাছে বা উচ্চ তাপমাত্রার কাছাকাছি বেলুন রাখা হলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে।
  • হাইড্রোজেন গ্যাস দীর্ঘস্থায়ী নয়। বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে এটি জলে পরিণত হয়। তাই বেলুনে হাইড্রোজেন এর সাথে বাতাস মিশ্রিত হলে এটি ধীরে ধীরে বেলুনের ভিতরের চাপ কমে নিভে যায়।


হিলিয়াম গ্যাস দাহ্য নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী। তাই এটি বেলুনে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর।


তাই সবকিছু বিবেচনায় হিলিয়াম হাইড্রোজেন এর তুলনায় দামী হওয়া সত্ত্বেও বাণিজ্যিকভাবে বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

avatar
+৩ টি ভোট
S.T.P বলতে কি বুঝায়? এর মান কত?

S.T.P এর পূর্ণরূপ হল Standard Temperature and Pressure। বাংলায় একে প্রমাণ উষ্ণতা/তাপমাত্রা ও চাপ বলা হয়। S.T.P হল এমন একটি মান যাতে গ্যাসের আচরণকে আদর্শ গ্যাসের আচরণের সাথে তুলনা করা যায়।


S.T.P এর মান গুলো হলঃ

  • তাপমাত্রাঃ 0°C বা 273.15 K
  • চাপঃ 1.01325×10⁵Pa বা 1 atm
  • এক মোল গ্যাসের আয়তনঃ 22.414 L
avatar
+৩ টি ভোট
হাইড্রোলিক্স কি?
হাইড্রোলিক্স হল তরলের চাপ এবং প্রবাহের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে সম্পর্কিত প্রকৌশল বিজ্ঞানের একটি শাখা। এটি স্থিতিশীল বা গতিশীল অবস্থায় তরল পদার্থের আচরণ এবং ব্যবহার অধ্যয়ন করে।
+৩ টি ভোট
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে উঠলে তাপমাত্রা হ্রাস পায় কেন?

ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে উঠলে তাপমাত্রা হ্রাস পায় প্রধানত দুটি কারণে:

  • বায়ুমণ্ডলের চাপ হ্রাস পায়: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব এবং চাপ হ্রাস পায়। বায়ুমণ্ডলের চাপ তাপমাত্রার উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব কমলে তাপ ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। তাছাড়া বায়ুমণ্ডলের চাপ বেশি হলে তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং বায়ুমণ্ডলের চাপ কম হলে তাপমাত্রা কম থাকে।
  • ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপশক্তির পরিমাণ হ্রাস পায়: ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপশক্তি আকাশের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর ঘনত্ব কমতে থাকে, ফলে বায়ুতে তাপশক্তির পরিবহন কম হয়। ফলে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।


ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে উঠলে তাপমাত্রা হ্রাসের হার সাধারণত ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার হারে থাকে। তবে, উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলের গঠন পরিবর্তিত হয়। তাই, উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা হ্রাসের হারও পরিবর্তিত হতে পারে।

avatar
+২ টি ভোট
অনেক উচ্চতায় প্লেন চলার সময় পিছনে সাদা ধোয়ার মতো দাগ দেখা যায় কেন?
উচ্চ-উচ্চতার প্লেনগুলির পিছনে যে দৃশ্যমান সাদা ধোয়ার মত দেখা যায় সেটি কনট্রেইল নামে পরিচিত, যা কন্ডেনসন ট্রেইল এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ঘটে যখন জেট ইঞ্জিন থেকে উত্তপ্ত নিষ্কাশন গ্যাস উপরের হিমশীতল বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে দ্রুত ঠান্ডা হয়ে বরফ কণায় পরিণত হয়।

জেট ইঞ্জিনে জ্বালানি এবং অক্সিজেন বার্ন হয়ে নিষ্কাশন রূপে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্প নিঃসরিত হয়। আমরা জানি উচ্চ-উচ্চতায় বায়ুমণ্ডল অনেক ঠান্ডা থাকে। প্লেন যখন এমন উচ্চতা দিয়ে উড়ে যেখানে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বরফ জমার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার নিচে থাকে তখন জেট ইঞ্জিনের নিষ্কাশন গ্যাস উপরের হিমশীতল বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঠান্ডা হয়ে বরফ কণায় পরিণত হয়, যা জেট ইঞ্জিনের পিছনে একটি দৃশ্যমান সাদা পথ তৈরি করে। আমরা মূলত এটিকেই সাদা ধোয়ার মতো দেখতে পাই।
avatar
+২ টি ভোট
নন নিউটনিয়ান ফ্লুইড বলতে কি বোঝায়?

নন-নিউটনিয়ান ফ্লুইড বলা হয়ে থাকে ওইসব ফ্লুইড / প্রবাহী পদার্থকে যেগুলোর সান্দ্রতা (Viscosity) তার উপর চাপ প্রয়োগের সাথে পরিবর্তিত হয়। এদের নন-নিউটনিয়ান ফ্লুইড বলা হয় কারণ এসব ফ্লুইড নিউটনের সান্দ্রতার সূত্র মেনে চলে না। সান্দ্রতা হলো প্রবাহী পদার্থের একটি গুণ যেটা বর্ণনা করে পদার্থটির প্রবাহের প্রতি প্রতিরোধের পরিমাণ। নিউটনের সন্দ্রতার সূত্র অনুসারে কোনো পদার্থের সান্দ্রতা সব ক্ষেত্রে ধ্রুবক। কিন্তু নন-নিউটনিয়ান পদার্থের ক্ষেত্রে এর সান্দ্রতা এর উপর প্রযুক্ত চাপের সাথে পরিবর্তিত হয়। নিউটনের সন্দ্রতার সূত্র মে না চলার কারণেই এদের নন-নিউটনিয়ান ফ্লুইড বলা হয়।


নন-নিউটনিয়ান ফ্লুইড দুই ধরনের হয়:

  • সিউডোপ্লাস্টিক (Pseudoplastic): সিউডোপ্লাস্টিক বলা হচ্ছে সেসকল নন-নিউটনিয়ান ফ্লুইডকে যেগুলোর সন্দ্রতা চাপ প্রয়োগের সাথে কমে অর্থাৎ চাপ প্রয়োগ করলে সহজে প্রবাহিত হয়।
  • ডাইলাট্যান্ট (Dilatant): ডাইলাট্যান্ট বলা হচ্ছে সেসকল নন-নিউটনিয়ান ফ্লুইডকে যেগুলোর সন্দ্রতা চাপ প্রয়োগের সাথে বাড়তে থাকে অর্থাৎ চাপ প্রয়োগ করলে যেগুলোর প্রবাহ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
+৪ টি ভোট
ডায়মন্ড কাটা হয় কিভাবে?
আমরা জানি ডায়মন্ড সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হিসেবে বিবেচিত। তাহলে একে কাটা হয় কিভাবে?

টি উত্তর
avatar
+৪ টি ভোট
জ্বর আসলে শরীর গরম থাকে কিন্তু তারপরেও ঠান্ডা লাগে কেন?
জ্বর হলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এটা মূলত আমাদের শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি পদ্ধতি। উচ্চ তাপমাত্রা আমাদের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনের গতি বাড়িয়ে এবং ব্যাকটেরিয়া প্রজননকে ধীর করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এভাবে উচ্চ তাপমাত্রা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

আমাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করার জন্য শরীরের সাধারণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণ স্বরূপ হিউম্যান বডির সাধারণ তাপমাত্রা 36.8°C বা 98°F। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে আমাদের শরীর এই তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে আগে যেখানে শরীরের তাপমাত্রা 36.8°C থাকলে আমাদের স্বাভাবিক মনে হতো এখন এতে ঠান্ডা অনুভূত হবে। ফলে আমাদের শরীর তার তাপমাত্রা বর্তমান স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পৌঁছাতে বিভিন্ন উপায়ে তাপ উৎপাদন করে। ফলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। কিন্তু তাপমাত্রা শরীরের বর্তমান সাধারণ তাপমাত্রায় না পৌঁছানোয় ঠান্ডা অনুভূত হয়। এভাবেই মূলত জ্বর আসলে শরীর গরম থাকে কিন্তু তারপরেও ঠান্ডা লাগে।
avatar
+৩ টি ভোট
ফেরো ম্যাগনেটিক ম্যাটেরিয়াল বলতে কি বুঝায়?
ফেরো (Ferro) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Ferrum থেকে এসেছে, যা দিয়ে লোহা / আয়রন বোঝানো হয়। আর ফেরো ম্যাগনেটিক ম্যাটেরিয়াল বলতে সেসব পদার্থকে বোঝানো হচ্ছে যেগুলো চুম্বক এর সাথে লোহার ন্যায় আচরণ করে। অর্থাৎ সহজ কথায়  ফেরো ম্যাগনেটিক পদার্থ বলতে যেসব পদার্থ চুম্বক কর্তৃক আকর্ষিত হয় সেগুলোকে বুঝায়।
avatar
+২ টি ভোট
ইনফ্রারেড থার্মোমিটার কিভাবে কাজ করে?

ইনফ্রারেড থার্মোমিটার: একটি নন-কন্টাক্ট থার্মোমিটার, এটি এমন একটি ডিভাইস যা কোনো বস্তুকে স্পর্শ না করেই তার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে। ইনফ্রারেড থার্মোমিটার কোনো বস্তু থেকে নির্গত ইনফ্রারেড রেডিয়েশন এর পরিমাণ সনাক্ত করার মাধ্যমে তার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিমাপ করে। ইনফ্রারেড রেডিয়েশন মূলত একধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগেটিক রেডিয়েশন যা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না।


ইনফ্রারেড থার্মোমিটারে থার্মোপাইল নামক একটি বিশেষ সেন্সর থাকে যেটা ইনফ্রারেড রেডিয়েশন সনাক্ত করতে পারে। যোখন ইনফ্রারেড রেডিয়েশন থার্মোপাইলে আঘাত করে তখন থার্মপাইল এই রেডিয়েশন শোষণ করে একটি ছোট্ট বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে। এরপর এই সিগন্যালকে অ্যাম্পলিফাই করে তাপমাত্রা রিডিং হিসেবে ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করা হয়।


ইনফ্রারেড থার্মোমিটার কতোটা নিখুঁত রিডিং প্রদান করবে সেটা কিছু ফ্যাক্টর এর উপর নির্ভর করে, যেমন:

  • থার্মোমিটার এবং বস্তুর দুরত্ব
  • চারপাশের পরিবেশের অবস্থা
  • সেন্সর এর ধরন ইত্যাদি।
avatar
+৪ টি ভোট
বজ্রপাতের সময় এতো প্রবল শব্দ হয় কেন?

বজ্রপাতে সৃষ্ট প্রচন্ড তাপের ফলে বাতাসে সংকোচন প্রসারণের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে তীব্র শব্দের উৎপত্তি হয়।


বজ্রপাতে সৃষ্ট প্রচন্ড তাপমাত্রা পাশের বায়ুমণ্ডল কে খুব জোরে চাপ দেয় বা প্রসারিত করে। এর জন্য  শব্দ হয়, যেমন ঠান্ডা জলে যদি গরম লোহার রড প্রবেশ করাই একটা শব্দ উৎপন্ন হবে বা রান্না করার সময় গরম তেলে ঠান্ডা কিছু দিলে শব্দ হয়।

avatar
+২ টি ভোট
তামার পাত্রে জল বা খাবার খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা বলছে তামার পাত্রে অনেকক্ষণ জল রাখলে তা থেকে সামান্য তামার আয়ন জলে মিশতে পারে। এমনিতেই আমাদের পুষ্টিতে ট্রেস উপাদান হিসাবে  তামার কিছু উপকারী ভূমিকা আছে। কিন্তু বেশি মাত্রায় তামা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে গৃহীত হলে কপার টক্সিসিটি তৈরি করতে পারে।


শরীরে প্রতিটি খনিজেরই একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় চাহিদা রয়েছে। তবে নিয়মিত চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে কোনও খনিজ দেহে প্রবেশ করলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তামার পাত্রে সারারাত জল রেখে সকালে উঠে সেই জল খেলেও কিন্তু একই ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত তামা দেহে প্রবেশ করার কারণে কপার টক্সিসিটি তৈরি হয়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারাদিনে ১০ মিলিগ্রামের বেশি তামা দেহে প্রবেশ করলেই একাধিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

avatar
+৫ টি ভোট
কিভা‌বে মহা‌বিশ্ব দ্রুত প্রসা‌রিত হ‌চ্ছে?

"মহাবিশ্ব দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে" এই বিবৃতিটির মা‌নে কী? মহাবিশ্ব কিসের সাপেক্ষে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে?


image

টি উত্তর
avatar
+৩ টি ভোট
পৃ‌থিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পরে যাই না কেন?

আমরা পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে ছিটকে পড়ে না যাওয়ার পিছনে দায়ী মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।


আমরা এবং পৃথিবী একই ঘূর্ণন গতির অধীন। পৃথিবী যখন তার অক্ষের উপর ঘোরে, তখন আমরা সহ এর পৃষ্ঠের বস্তুগুলিও এর সাথে ঘোরে। এই ঘূর্ণন গতি একটি কেন্দ্রাতিগ শক্তি (সেন্ত্রিফিউগাল ফোর্স) তৈরি করে যা আমাদের পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চায়। অপরদিকে মাধ্যাকর্ষণ সবকিছুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে নিতে চায়। যাইহোক, পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পরস্পরের বিপরীত দিকে কাজ করে। এই দুটি শক্তি (মাধ্যাকর্ষণ এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তি) একে অপরের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখে, যার ফলে একটি স্থিতিশীল ভারসাম্য তৈরি হয় ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের বস্তুগুলি ছিটকে পড়ে যায় না।
avatar
+৫ টি ভোট
কার্বলিক অ্যাসিড কি সাপ তাড়াতে সাহায্য করে?
অনেক মানুষ আছে যারা বিশ্বাস করেন কার্বলিক অ্যাসিড দিয়ে সাপ তাড়ানো যায়। এ‌টি কি স‌ত্যি না‌কি ভ্রান্ত ধারণা?

টি উত্তর
avatar
+৩ টি ভোট
সোলার প্যানেল শতকরা কতভাগ সূর্যের আলোকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে?
একটি সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা বলতে বোঝানো হচ্ছে সে সূর্য থেকে নেয়া তাপ দিয়ে কতটুকু বিদ্যুৎ শ‌ক্তি উৎপন্ন করতে পারে। সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা বছরের পর বছর ধরে উন্নত হচ্ছে, তবে এটি ব্যবহৃত সোলার সেল, প্রযুক্তির ধরন, প্যানেলের গুণমান এবং পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। 

বাজারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন সৌর প্যানেলগুলি স্ফটিক সিলিকন সোলার সেল ব্যবহার করে, সাধারণত এগুলোর কার্যকারিতা  রপরিসীমা ১৫% থেকে ২২% এর মধ্যে। এর মানে হল যে তারা সূর্যালোকের ১৫% থেকে ২২% শ‌ক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। তবে কিছু উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন সোলার প্যানেল ২৬% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সূর্যালোক কাজে লাগাতে পারে। 

এটি লক্ষণীয় যে সৌর প্যানেলের দক্ষতা উন্নত করার উপর ফোকাস করে গবেষণা এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টা প্রতিনিয়তই চলছে। নতুন প্রযুক্তি, যেমন মাল্টি-জাংশন সোলার সেল এবং পেরোভস্কাইট সোলার সেল, গবেষনার ল্যাবরেটরিতে আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সোলারের শ‌ক্তি আরও বৃ‌দ্ধির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তবে এই অগ্রগতিগুলির সু‌বিধা বাণিজ্যিকভাবে ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারে আসতে আরও কিছু সময় লাগবে।
avatar
+৩ টি ভোট
গরম ধাতু লাল রঙের দেখায় কেন?

এই প্র‌ক্রিয়া‌টি ইনক্যান্ডেসেন্স নামে প‌রি‌চিত। অর্থাৎ, যখন নির্দিষ্ট ধাতুগুলি খুব উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হয়, তখন তারা একটি নি‌র্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় যা ইনক্যান্ডেসেন্স নামে পরিচিত, এ অবস্থায় ধাতুগুলি দৃশ্যমান আলো নির্গত করে। এই প্র‌ক্রিয়ায় সাধারণত ধাতু জ্বলজ্বলে লাল বা এমনকি সাদা হিসাবে পরিলক্ষিত হয়। 


উত্তপ্ত ধাতু দ্বারা নির্গত আলোর রঙ তার তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে রঙ লাল থেকে কমলা, হলুদ এবং অবশেষে সাদাতে পরিবর্তিত হয়। তাপমাত্রা এবং আলোর নির্গমন বর্ণালীর মধ্যে সম্পর্কের কারণে এই রঙের পরিবর্তন হয়।


যখন একটি ধাতু উত্তপ্ত হয়, তখন এর পরমাণু তাপ শক্তি শোষণ করে, যার ফলে ধাতুর পারমাণবিক কাঠামোর ইলেকট্রনগুলি উত্তেজিত হয় এবং উচ্চ শক্তির স্তরে চলে যায়। এই উত্তেজিত ইলেক্ট্রনগুলি তাদের নিম্ন শক্তির স্তরে ফিরে আসার সাথে সাথে তারা আলো আকারে অতিরিক্ত শক্তি ছেড়ে দেয়। নির্গত আলোতে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ফোটন থাকে এবং আলোর রঙ নির্গত বর্ণালীতে উপস্থিত নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য দ্বারা নির্ধারিত হয়।


নিম্ন তাপমাত্রায়, নির্গত আলোর দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকে, যা লাল রঙের সাথে যুক্ত থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্গত ফোটনের গড় শক্তি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হয় এবং ক্রমান্বয়ে কমলা, হলুদ এবং সাদা রঙের দিকে প‌রিব‌র্তিত হয়।

আরো দেখতে, এই বিভাগের সকল প্রশ্ন দেখুন

২৭৫ টি প্রশ্ন

২৬৭ টি উত্তর

৩০ টি মন্তব্য

৪৩ জন সদস্য

এই মাসের সেরা সদস্যগন

  1. avatar
  2. avatar

সাম্প্রতিক ব্যাজ সমুহ

admin ১২ ৫৮ একটি ব্যাজ পেয়েছেন
admin ১২ ৫৮ একটি ব্যাজ পেয়েছেন
admin ১২ ৫৮ একটি ব্যাজ পেয়েছেন
whoever ১৪ ৫৮ ২১৮ একটি ব্যাজ পেয়েছেন
admin ১২ ৫৮ একটি ব্যাজ পেয়েছেন
...